ফ্রান্সের আকাশে ড্রোন ট্যাক্সি
তাড়াহুড়োর মধ্যে যানজটে আটকে থাকার সময় অনেকেরই মনে হয়, ট্যাক্সিটা যদি আকাশে উড়ে মুহূর্তে গন্তব্যে পৌঁছে দিতে পারত, কী যে ভাল হত! এমন ভাবনা এখন একেবারেই অবাস্তব নয়। কারণ খুব শিগগির বাজারে আসছে উড়ন্ত ট্যাক্সি। বেশ কয়েকটি বেসরকারি সংস্থার মতো জার্মানির ‘ভোলোকপ্টার’ সংস্থাও সেরে ফেলল তাদের তৈরি উড়ন্ত ট্যাক্সির পরীক্ষামূলক অভিযান। যা দেখতে অনেকটা ড্রোনের মতো।
ফ্রান্সের আকাশে প্রথমবারের মতো উড়ল ইলেকট্রিক হেলিকপ্টার। রাজধানী প্যারিসের কাছে হেলিকপ্টারটিকে পরীক্ষামূলকভাবে ওড়ানো হয় স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার।
২০২৪ সাল থেকে ইলেকট্রিক হেলিকপ্টারের মাধ্যমে বাণিজ্যিকভাবে ফ্লাইট পরিচালনার লক্ষ্যেই এই প্রস্তুতি নিচ্ছে ভলকপ্টার নামে জার্মান উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান।
প্রতিষ্ঠানটির নির্মিত এই ইলেকট্রিক হেলিকপ্টার দেখতে বিশালাকার ড্রোনের মতো। হেলিকপ্টারটিতে আটটি রোটর রয়েছে। এটি একজন যাত্রী নিয়ে প্যারিস শহরের বাইরের পন্তোয়েস-করমেইলেস বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন শুরু করে। হেলিকপ্টারটি যখন উড়ছিল, তখন এর আশপাশে বেশ কয়েকটি উড়োজাহাজ থেকে এর ওপর নজর রাখা হচ্ছিল।
ভলকপ্টারের সিইও ডার্ক হোক বলেছেন, ‘পরবর্তী ১৮ মাসের মধ্যেই হেলিকপ্টারটি ফ্লাইট পরিচালনা করতে প্রস্তুত হবে বলে আমরা আশাবাদী। আশা করছি, ২০২৪ সালের গ্রীষ্মে ফ্রান্সের প্যারিসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া অলিম্পিক গেমসের সময় থেকেই ছোট পরিসরে বাণিজ্যিকভাবে ফ্লাইট পরিচালনা করতে সক্ষম হব।’
সেই লক্ষ্যে উড়ন্ত ট্যাক্সির জন্য প্রশংসাপত্র জোগাড়ের কাজ করবে সংস্থা। এ ছাড়াও পরিকাঠামোগত দিক থেকে ওই যানে কিছু বদলও আনা হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংস্থার সিইও ডার্ক হোক।
এরপরই দুই সিটের এই ইলেকট্রিক হেলিকপ্টার সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে আকাশে উড়তে সক্ষম হবে বলে আশা করছে নির্মাতারা। তবে এখনো অনেক কাজই বাকি। অবকাঠামো, আকাশসীমাবিষয়ক আইনি জটিলতা এড়ানো এবং জনগণের গ্রহণযোগ্যতা আদায়ের লক্ষ্যে তাদের আরও কাজ করতে হবে।
হেলিকপ্টারটির পরীক্ষামূলক উড্ডয়নের পাইলট পল স্টোন বলেন, ‘ইলেকট্রিক হেলিকপ্টারটির ডিজিটাল ফ্লাই-বাই-ওয়্যার সিস্টেম এবং একাধিক রোটর সিস্টেমের সমন্বয়ে তৈরি। এ কারণে এটিকে সাধারণ হেলিকপ্টারের চেয়ে অনেক বেশি সহজে চালানো যায়।’
উড়ন্ত এই ট্যাক্সিতে আপাতত দু’জন যাত্রী বসতে পারবেন। বিমান ও হেলিকপ্টারের সঙ্গে এই যানটির মূল পার্থক্য হল, ওঠানামা করতে খুবই অল্প জায়গার দরকার হয় এই ট্যাক্সির। ফলে শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাওয়া অনেক বেশি সহজ হবে।
এর আগে গত মাসেই চিনের গুয়াংঝাউয়ের একটি সংস্থাও দুবাইয়ের আকাশে তাদের উড়ন্ত ট্যাক্সি পরীক্ষামূলক ভাবে উড়িয়েছে। ২০২১ সাল থেকেই এই ‘ইভিটিওএল’ যানটি নিয়ে গবেষণা চালাচ্ছিল সংস্থাটি।